সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন নীতিমালা, সুযোগ পাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মায়ের স্নেহের স্মৃতি মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মুকুল ‘ডিসেম্বর’ নিয়ে অলি আহমদের বক্তব্যে রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ‎জামালগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি, কোনো বৈষম্য থাকবে না : এমপি কামরুজ্জামান কামরুল মেয়েকে হারিয়েছেন পানিতে, এখন অন্য শিশুদের বাঁচাতে সাঁতার শেখান বাবা লোকজ পরিবেশনায় চিত্রায়িত হল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী সুনামগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই গর্বিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কয়েক হাজার মানুষের উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বম্ভরপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন হাতকড়াসহ পলায়ন, ফেসবুক লাইভ; শেষ রক্ষা হলো না আসিরের জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী হাওরে ধানের বাজার মন্দা, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দিরাই বিএনপিতে ঐক্য নেই, বাড়ছে বিভক্তি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে : র‌্যাবের মহাপরিচালক

রাজনৈতিক আশ্বাস, নির্বাচন ও আস্থার প্রশ্ন

  • আপলোড সময় : ৩০-০১-২০২৬ ১০:১২:১৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০১-২০২৬ ১০:১২:১৫ পূর্বাহ্ন
রাজনৈতিক আশ্বাস, নির্বাচন ও আস্থার প্রশ্ন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতি যখন চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে, তখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একাধিক পথসভায় দেওয়া তার বক্তব্যে যেমন রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি কঠোর সমালোচনা, তেমনি রয়েছে বিভাজনের রাজনীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস। বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলো- আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থনকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলীয় পরিচয়ের কারণে সাধারণ মানুষ নানা সময়ে হয়রানি, নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছে - এটি নতুন কিছু নয়। ক্ষমতার পালাবদলের সময় প্রতিপক্ষ দলের সাধারণ সমর্থকদের ওপর প্রতিশোধমূলক আচরণ এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা। সেই প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের আশ্বাস নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি স্পষ্ট আশ্বস্তকরণ। ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন- যারা অন্যায় করেননি, সাধারণ মানুষ, তাদের “বুকের মধ্যে রেখে আগলে রাখা হবে।” অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বারবার রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হওয়ায় এই আশ্বাস রাজনৈতিক বক্তব্যের গ-ি পেরিয়ে নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নও উত্থাপন করে। তবে বাস্তবতা হলো- নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে, সেটিই প্রশ্ন। ১৫ বছর পর একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা - এই বক্তব্যও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ভোটাধিকার হরণ, প্রশাসনিক প্রভাব এবং অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, “যার ভোট তিনি দিতে পারবেন” - এই প্রত্যাশা কেবল বিএনপির নয়, দেশের অধিকাংশ নাগরিকেরও। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল প্রত্যাশা দিয়ে হয় না; এর জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ প্রশাসন, কার্যকর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সব দলের জন্য সমান মাঠ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত - এই মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে আংশিকভাবে মিললেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তির জায়গা তৈরি করতে পারেনি। রাজনীতি যদি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট লাঘবের পথ না দেখায়, তবে সে রাজনীতির প্রতি আস্থা টেকসই হয় না। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে দেওয়া বক্তব্যে মির্জা ফখরুল অতীতের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছেন। ২০০১ সালের সরকারে শরিক থাকার পর এখন দুর্নীতির অভিযোগ তোলা রাজনৈতিক সুবিধাবাদেরই বহিঃপ্রকাশ - এমন বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন। এখানে তিনি যে প্রশ্নটি তুলেছেন- “দায় কি কেবল এক পক্ষের?” - তা বাংলাদেশের জোট রাজনীতির একটি মৌলিক প্রশ্ন। ক্ষমতায় অংশীদার হলে দায়ও যৌথ - এই সত্য অস্বীকারের সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে একটি নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য স্পষ্ট- প্রতিহিংসার রাজনীতির বদলে আশ্বাসের রাজনীতি। তবে ইতিহাস বলে, রাজনীতিতে কথার চেয়ে কাজই বড়। বিএনপি যদি সত্যিই নিরপরাধ সমর্থক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। এখন দেখার বিষয়- এই আশ্বাসগুলো নির্বাচনী বক্তব্য হয়েই থাকবে, নাকি ক্ষমতার বাস্তবতায় রূপ নেবে। দেশের মানুষ আর প্রতিশ্রুতি নয়, চায় আস্থা, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক ভোটাধিকার। নির্বাচন সেই পরীক্ষারই নাম।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘ডিসেম্বর’ নিয়ে অলি আহমদের বক্তব্যে রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

‘ডিসেম্বর’ নিয়ে অলি আহমদের বক্তব্যে রাজনীতিতে নতুন আলোচনা